আফ্রিকার দেশগুলোয় মার্কিন বাণিজ্য কর্মসূচি আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট (এজিওএ) মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এতে মহাদেশটির শত শত প্রতিষ্ঠান ও লাখ লাখ চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটনে এ সুবিধা নবায়নের পক্ষে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলেরই সমর্থন রয়েছে। কিন্তু অল্প সময়ের জন্য হলেও এজিওএ স্থগিত থাকলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আফ্রিকার ব্যবসায়ীরা। খবর রয়টার্স।
এজিওএর আওতায় গত ২৫ বছরে সাহারা-দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলো থেকে কয়েক হাজার পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। শুধু ২০২৩ সালেই এ কর্মসূচির আওতায় আফ্রিকা থেকে রফতানি হয়েছে ৯৭০ কোটি ডলারের পণ্য।
ট্রাম্প প্রশাসন আগস্টে দেশভিত্তিক শুল্ক আরোপ করেছে। এটি আফ্রিকার রফতানিকে দুর্বল করে দিয়েছে। এর সঙ্গে এজিওএ নবায়নে বিলম্ব নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিভিত্তিক পোশাক প্রস্তুতকারক ইউনাইটেড অ্যারিয়ানের চেয়ারম্যান পঙ্কজ বেদী বলেন, ‘শুল্ক আবার কার্যকর হওয়ায় তাৎক্ষণিক কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোম্পানিগুলোর ক্ষতি সামলানোর মতো সক্ষমতা নেই। কিছু ক্রেতা আপাতত ক্ষতি বহন করতে রাজি হলেও নভেম্বরে নবায়ন না হলে এজিওএ সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে।’
দক্ষিণ আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে। দেশটি একাই এজিওএর আওতায় মোট রফতানির অর্ধেক করে। সেখানে গাড়ি, সাইট্রাস জাতীয় ফল ও পানীয়ের মতো পণ্যে এখন ৩০ শতাংশ শুল্ক বসেছে।
এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির গাড়ি রফতানি ৮৩ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স অব সাউথ আফ্রিকার প্রধান অর্থনীতিবিদ পলিনা মামোগোবো।
অন্যদিকে কেনিয়া, মাদাগাস্কার ও মরিশাসের মতো দেশে ১০-১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছে। এজিওএ ছাড়া এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি লাভজনক থাকছে না। এতে লাখো চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সমর্থন থাকলেও এজিওএ কর্মসূচির নবায়ন এখনো অনিশ্চিত। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমরা যদি এজিওএ পুনরায় অনুমোদন করতে ব্যর্থ হই, চীন আমাদের জায়গা নিতে এক মুহূর্ত দেরি করবে না।’